মূল্য সচেতন ক্রেতারা বেছে নিচ্ছেন ওয়ালমার্ট চাপে টার্গেট

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পণ্য বিক্রেতা জায়ান্ট ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতায় এখন স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পণ্য বিক্রেতা জায়ান্ট ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতায় এখন স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্বল ভোক্তা আস্থার মাঝে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দাম ও ভালো মানের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এ পরিবর্তন ওয়ালমার্টের বিক্রি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত টার্গেট আগের আড়ম্বরপূর্ণ পরিচিতি হারাতে বসেছে। খবর সিএনএন।

ওয়ালমার্টে গত আগস্ট-অক্টোবর প্রান্তিকে বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময় টার্গেটের বিক্রি কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই রিটেইল জায়ান্টের মধ্যে বিক্রির এ ব্যবধান কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দেয়া ওয়ালমার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডগ ম্যাকমিলান বলেন, ‘সবাই চান খরচের উপযুক্ত মূল্যায়ন।’

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা এখনো দুর্বল। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিও মন্থর। শাটডাউনের সময় নিম্ন আয়ের মানুষের খরচ কমে গেছে। ফক্স নিউজের চলতি সপ্তাহের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৬ শতাংশ নাগরিক অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৬৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েটের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্র্যান্ডের ‘মূল্য’ ধারণা শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না। প্রায় ৪০ শতাংশ আসে দামের বাইরে অন্যান্য বিষয় থেকে। এ ধারণার পার্থক্য বোঝাতে তারা অ্যাপলের একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরেছেন। অ্যাপল ১ হাজার ডলারের আইফোন এয়ার বাজারে এনেছিল। মডেলটি তুলনামূলক স্লিম হলেও ফিচার কম ছিল। তাই ক্রেতারা এটি বেশি কেনেননি। বরং তারা ঝুঁকেছেন আরো দামি ২ হাজার ডলারের আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের দিকে। স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

ওয়ালমার্ট দীর্ঘদিন ধরে ‘এভরিডে লো প্রাইসেস’ কৌশল মেনে চলে। অর্থাৎ ঘন ঘন ছাড় না দিয়ে নিয়মিত কম দাম রাখা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি গত এক দশকে দোকানের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও ফল-সবজির গুণগত মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। কর্মীদের বেতনও বাড়িয়েছে। এসব পরিবর্তন ওয়ালমার্টকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের পাশাপাশি তুলনামূলক উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ পরিচালক জন ডেভিড রেইনি বলেন, ‘আমরা যে মূল্য দিচ্ছি, ক্রেতারা সেটাই দেখছেন। তাই আমরা বাজার হিস্যা বাড়াতে পারছি।’

টার্গেট কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক আড়ম্বরপূর্ণ পণ্যের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু দোকানের অগোছালো পরিবেশ, পণ্যের ঘাটতি ও বাড়তি দামের কারণে ক্রেতাদের মনোভাব বদলে গেছে। গ্লোবালডাটা রিটেইলের বিশ্লেষক নিল সন্ডার্স বলেন, ‘দোকানে পণ্য না পাওয়া, বিশৃঙ্খলা, দীর্ঘ লাইন ও তালাবদ্ধ পণ্য প্রভৃতি কারণে গ্রাহকরা টার্গেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।’

আগামী বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্যসামগ্রী ও ডিজিটাল সেবা বাড়াতে মূলধনি ব্যয় ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করছে টার্গেট। এছাড়া ছুটির মৌসুম সামনে রেখে তিন হাজার পণ্যের দাম কমানো হবে। নতুন পণ্যের সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হবে। টার্গেটের নতুন প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফিডেল বলেন, ‘আপনারা আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে হতাশ হলে আমরাও হতাশ। আবারো প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি।’

আরও